আমি আর কখনোই হাল ছাড়বো না।

Category: Education & Career | Tags: Career Planning

Author: Md Ibrahim Sarkar | Published on: December 30, 2024, 6:53 a.m.


আর. ইউ. ড্যারবি তখন তরুণ। তার চাচা একদিন উত্তরের পাহাড় থেকে ফিরে এসে বললেন,
“আমাদের ওখানে সোনার খনি পাওয়া গেছে!”
উত্তেজনায় ড্যারবি আর তার চাচা সবকিছু গুছিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিলেন।
“এইবার আমরা সত্যিই ধনী হবো!” – ড্যারবি মনে মনে ভাবলেন।
সোনার সন্ধান শুরু হলো। প্রথমে কয়েক সপ্তাহ ধরে খনন করার পর সোনার ছোট একটা শিরা (vein) পেলেন। শিরা (vein) হলো ভূগর্ভে থাকা একটি সরু বা লম্বা স্তর, যেখানে খনিজ পদার্থ (যেমন সোনা, রূপা, তামা) জমা হয়। এটি দেখতে অনেকটা পাথরের ফাটলের মধ্যে গেঁথে থাকা খনিজ পদার্থের মতো।
তো তারা সোনার শিরা পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।
এবার বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে ডেনভার থেকে বিশাল যন্ত্রপাতি কিনলেন এবং সোনার খনন শুরু করলেন।
দিনে দিনে সোনা উত্তোলন বাড়তে থাকলো, ড্যারবি মনে করতে লাগলেন
“সাফল্য আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে আমাদের আর কে আটকায়।”
কিন্তু হঠাৎ করেই, সোনার শিরাটি অদৃশ্য হয়ে গেল।
তারা আরও গভীরে গেলেন, কিন্তু কোনো সোনার সন্ধান পেলেন না।
এরপর মাসের পর মাস কাটিয়ে দিলেও, আর সোনার দেখা নেই। দিন যেতে লাগল। এক সময় শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে তারা খনি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
হতাশ হয়ে তারা ডেনভারে ফিরে এসে খনিটি একজন পুরনো ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র কয়েকশো ডলারে বিক্রি করে দিলেন।
এরপর গল্পের মোড় ঘুরে যায়...
সেই ব্যবসায়ী খনিটি কেনার পর একজন ইঞ্জিনিয়ার ডেকে আনলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খনি পরীক্ষা করে বললেন –
"ড্যারবিরা সোনার শিরা থেকে মাত্র তিন ফুট দূরে থেমে গিয়েছিলেন! আর খনন করেননি"
ব্যবসায়ী খনন শুরু করলেন এবং তিন ফুট পরেই বিশাল পরিমাণ সোনা পেলেন।যেটা ড্যারবিদের পাওয়া সোনা থেকে বহুগুন বেশি।
সহসাই সেই ব্যবসায়ী কোটি কোটি ডলারের মালিক হয়ে গেলেন।
এই ঘটনা থেকে
ড্যারবি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিলেন – "আমি আর কখনোই হাল ছাড়ব না!"
পরে তিনি নিজস্ব ব্যবসায় নামেন এবং এই শিক্ষা নিয়ে লাখো ডলারের সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন।
এই ধরনের ঘটনাতো আমরা অনেক পড়েছি। কিন্তু এই ঘটনার যে শিক্ষা "লেগে থাকো"। এই লেগে থাকার মানসিকতা নিয়ে আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাই কি?
ঘটানাটি "থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ" বই থেকে নেয়া।